Showing posts with label আজাইরা. Show all posts
Showing posts with label আজাইরা. Show all posts

Sep 15, 2007

টোয়েন্টি-টোয়েন্টি



টোয়েন্টি-টোয়েন্টি খেলা দেখিনি এখনো। তবে বুঝতে পারছি খেলাটা জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট বিনোদনের আবেদন বিশ্বব্যপী করবার জন্য যা করা দরকার সেটাই করছে কর্তাব্যক্তিরা। ওভার কমানো, মাঠ ছোট সাইজ করা, আরো নানাবিধ; ভবিষ্যতে চিয়ার লিডার'রা এসে হাফটাইমে কোমর দুলুনী দিলেও খুব একটা অবাক হবো না। গতপরশু ভারত-পাকিস্তান খেলায় যেটা দেখলাম, সেটা আমাকে ভাবালো। খেলা টাই হবার পর 'বোল আউট' নামক একটা উর্বর সমাধান। নিশ্চিত ভাবেই আইসিসি'র কর্মকর্তারা ফুটবল বাদে অন্য কোন খেলা দেখেন না, সেটা বোল আউট পদ্ধতি দেখলেই বোঝা যায়। জমজমাট একটা ম্যাচের নির্বোধ এবং প্রাণহীন সমাধান হতে পারে 'বোল আউট'। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের আনাচে-কানাচের কিশোর ক্রিকেটার'রা 'বোল আউটে'র চেয়েও দর্শনীয় এবং দক্ষতাপূর্ণ একটা সমাধান দিতে পারবে। যেটা পারেনি আইসিসি'র মাথামোটা মার্কেটিং এক্সপার্টরা। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। খেলা'র পণ্যমূল্য বাড়াতে গিয়ে, যেন বিনোদন মূল্য হারিয়ে না যায় সেদিকে তারা লক্ষ্য রাখবেন আশা করি।

Jan 31, 2007

এ্যাম্বার ভয়েস, হার্ট রেন্ডিং


একটা ম্যাগাজিনের সাবসক্রিপশন ক্যান্সেল করার দরকার ছিল। ফোন করলাম। এইখানে কাস্টমার সার্ভিসের লোকজনের বদনাম আছে, যে ওরা একটা সার্ভিস একবার যদি ধরায়া দেয়, তাইলেই হইলো। পরে ফোন কইরা যতবারই বলো যে এই সার্ভিস চাই না, ভাঙ্গা রেকর্ডে বলেই যাবে ... এইটা খুব ভাল, কেন ক্যান্সেল করবা, আর কয়দিন সার্ভিস নিয়া দেখ , ভাল লাগতেও পারে। যাই হোক আমিও রাতের খাওয়া খেয়ে, জুত করে কাউচে বসে ফোন করলাম যাতে কল টাইম লম্বা হলেও খারাপ না লাগে। কিন্তু বিধিবাম, আজ ফোনে সাক্ষাৎ রাধা আইসা পড়ছিলো। নামঃ এ্যাম্বার, মানে ব্রাউনিশ ইয়েলো। লাস্ট নেইম, এ্যাড্রেস সব ভেরিফাই করার পর কোন আতিশয্যে ব্যাতিরেকে ঘোষণা দিলো তোমার সার্ভিস ক্যান্সেল করে দিবো, ওকে। ডু ইউ ওয়ান্ট এনিথিং মোর। মনে হইলো হায়রে কেন যে ওদের কোম্পানীর সব ম্যাগাজিন সাবসক্রিপশন নি নাই? এ্যাম্বার ভয়েস এর সাথে আরেকটু কথা বলা যেত।

শুকনো পাতার নুপুর পায়ে এসে
ঢিসুম ঢিসুম গুলি চালালো
ভীষণ অন্যায়, ভীষণ ।।


Dec 11, 2006

একটি আস্ত ছিনতাইয়ের মস্ত বিবরণী -২


ছিনতাই এর পরের অনুভূতি খুব ভয়ংকর টাকা যাওয়াটা খুব বড় বিষয় না আমার একধরনের অসহায়ত্বের অনুভূতি হয়েছিল স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক আমি , আমার পুরো মাসের ইনকামের টাকা একজন এসে নিয়ে নিল আমি কিছু করতে পারলাম না এই কিছু করতে না পারার অনুভূতি কি পীড়াদায়ক আমি লিখে বোঝাতে পারবো না আমার কখনো এরকম হয়নি আমার সাথে থাকা বান্ধবী কে টিজ করেছে , আমি ভি. আই.পি রোডে শেরাটনের সামনে কলার ধরে ঝাকাইছি আমার বোনের ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে গেল , ট্যাক্সির পেছনে আধা কিলোমিটার দৌড়িয়েছিব্যাগ উদ্ধার করতে পারি নাই , বাট আই ট্রায়েড মাই বেস্ট আমার কাছ থেকে নিয়ে গেল আমি একটা কাঠ পুতলার মত দাড়িয়ে রইলাম আমার মনে হয়েছিল , যদি আমার মাকে বলি , আমি কিছু করতে পারি নাই আম্মা উনি বলবে তুই ঘর থেকে বাইর হয়া যাIt’s a feeling of anguishআমি যদি মন্ত্রির পোলা হইতাম, এই টাকা-মোবাইল উদ্ধার করতে এক ঘন্টা লাগত নিজেকে ক্ষমতাহীন , পঙ্গু অনুভব করেছিলাম তখন

কি করি ,আমার দোস্তর (অমি) সাথে আলাপ করলাম, ও বলল, 'থানায় কেস করতে হবে'

আমি বললাম 'লাভ কি, শুধু শুধু সময় নষ্ট ' ও যেটা বলল সেটা আমার জীবনে আমি ভুলবনা

' তুমি তোমার জিনিস ফেরত পাবা না আমি জানি , কেস করে লাভ নাই , আমি জানি কিন্তু তুমি যদি আজকে কিছু না করে চুপচাপ বাসায় চলে যাও , আজ থেকে দশ বছর বাদে কি বলবা নিজেকে তুমি তোমার সার্মথ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব , ততটুকু প্রতিবাদ ও করো নাই প্রতিবাদ এমন একটা বিষয় , যেটা সম্ভব কি, অসম্ভব চিন্তা করে করা হয় না এটা করতে হয় নিজেকে সমুন্নত রাখার জন্য '

যাও এবার খই ভাজতে ধানমন্ডি থানা মনে হলো যেন কাক-বক-শকুন সব একত্র হইছে কিচির মিচির ও. সি নাই , স্যার জগিং এ গেছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর , তিনি আসলেন একজন এস. আই কে বললেন বিষয়টা দেখতে আমার বন্ধু মুখে হম্বি-তম্বি ,কিন্তু ওইখানে গিয়া দেখি লাচ্ছা সেমাই হয়া গেছে এস. আই (নাম ভুলে গেছি ) সাহেব বেশ ভাল, ইয়ং পরীবাগ যাওয়া হল

রাস্তায় দাড়িয়ে ছিনতাইয়ের অনুপুংখ র্বণনা দিলামকেমনে নিল , কি নিল , নিয়ে ওরা কোনদিকে গেল এর মধ্যে হাবিলদার (মনে হয়) একজন জিজ্ঞাসা করতে লাগল,

'' কোন মডেলের সেট ''

'' নোকিয়া ৩১০০''

'' কত টাকা ''

আমার ধারণা হওয়া শুরু হল , লাভের বখরায় যাতে কম না পড়ে , তাই এত জিজ্ঞাসাবাদ

এদিকে এস. আই সাহেব , তার কাহিনী বলা , শুরু করেছেন আমার দোস্ত ফোনে গুটুর - গুটুর শুরু করছে প্রেমিকার সাথে

'' ভাই জানেন পুলিশের চাকরী নেওয়ার পর থেকে বিয়ে শাদীতে যাই না , আত্মীয় স্বজনের লোকজন কেমন করে জানি দেখে আমি অমুকের পোলা , বা অমুকের স্বামী বা অমুকের বাপ হিসেবে দেখে না পুলিশ হিসেবে দেখে গত সাত মাসে দুইটা পোস্টিং বাচ্চাটার বয়স ৩ বছর , কতদিন বউ-বাচ্চারে দেখিনা ''

যাই হোক , শেষ র্পযন্ত ওই এস. আই বললেন , ইর্স্টান প্লাজার সামনে যে আইল্যান্ড তার একপাশ পরে ধানমন্ডি থানায় আরেক পাশ রমনা থানায় আমারটা পরছে রমনা থানায় বোঝো ল্যাঠা এবার রমনা থানা থেকে একটা গাড়ি আসল এর মধ্যে লোকজন দেখে যাচ্ছে , একগাদা পুলিশ জটলা , মাঝখানে আমি কুতুব রমনা থানার গাড়িটা আসার পর ঠিক হলো , আমি -রমনা থানার এস. আই ড্রাইভারের পাশে বসে পুরা এলাকা চককর দিব এরা এডিক্টেড , কোথাও বসে মাল টানার সময় যদি ধরা যায় ওরা আমাদের মত অত বেকুব না , অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে ও পাই নাই

রাত দশটায় গেলাম রমনা থানা , জি.ডি করব এর আগে একবার জি.ডি করছি, কিন্তু বছর দুই আগে আমি ফরম্যাট তৈরী করে ওখানে যার টেবিলে বসে লিখতেছি তারে দেখাইলাম ওরা পছন্দ করে ওদের কাছ থেকে ইনসট্রাকশন নিয়ে লিখাআমি ইনসট্রাকশন নিই নাই বলে , এই শালা মনে হয় ক্ষেপে গিয়ে খেকঁশিয়ালের মত করে উঠল ,

''আপনারা ঢাকা র্ভাসিটিতে পড়েন, জানেন না , কেমনে লিখতে হয় '

আমরা যেন জি.ডি লিখা শিখি র্ভাসিটিতে

যদিও আমার লিখাটা ঠিক ছিল , ওটাই নিয়েছে শেষ র্পযন্ত

কোন কিছুই আর পাইনি

** যারা পড়বেন তাদের অনুরোধ করবো, ছিনতাই এর পরের অনুভূতি দু কথায় লিখতে

=======================================

২৪ শে মে ২০০৬

সন্ধ্যা ৭:১১

কলাম্বিয়া

একটি আস্ত ছিনতাইয়ের মস্ত বিবরণী -১

মিন্টু রোডে সি.এ.জি. এর বাসায় টিউশনি করানোর পর বেরিয়েছি

ভি. আই.পি রোড পার হলাম, গন্তব্য নাহার প্লাজা, পেনড্রাইভ কিনবমার্স্টাস থিসিস চলছে , পকেট র্ভতি ডাটা নিয়ে ঘুরতে হয়যাই হোক , পরীবাগ নাহার প্লাজার পিছনে যে নতুন রাস্তা হয়েছে ওটাতে হাটছি হালকা বৃষ্টি হয়ে ছিল আকাশ গোমড়া ,রাস্তা ভেজা আর আমি উদাসী

হঠাৎ চারটা ছেলে ঘিরে ধরল , একজন ডান হাতের কব্জি শক্ত করে ধরে রেখেছে হাত একটু একটু কাঁপছিল , অনায়াসেই বলা যায় ড্রাগ এডিক্ট

'এই ধাককা দিলেন ক্যা, দেইখা চলতে পারেন না ? রংবাজী করেন ?

আমার মনে তখন রং ছিলোনা যে , রংবাজী করবো মনটা বরং একটু

তরল ছিল ' ভাই আমিতো আপনাকে ধাককা দিই নাই , তবুও যদি আপনি ধাককা খেয়ে থাকেন সরি '

'ঐ মিয়া হোনেন একটু আগে এইহানে একটা গেনজাম হইচে আর করবার চাইতাছি না

কথাটা বলে সে আমার হাত তার কোমরে নিয়া ঠেকালো একটা অবয়বের উপর হাত বুলায়ে দিলো পরম মমতায় ঐ বস্তুটা হচ্ছে জিনিস ' আপনের কাচে লাখ টেকা থাকলে ও নিমু না, এক কাম করেন পোলাপাইন মিষ্টি খাইবো , পাচশো টাকা দেন ' আমার তখন ফেলো কড়ি মাখো লাউয়ের জুস টাইপ অবস্থাইনকাম এর মেজর র্পাট ২০০০ টাকা মানিব্যাগে , পেনড্রাইভ কেনার জন্য জিন্সের পকেটে মোবাইল আমি মনে মেন তখন জিকির করতাছি , এই মোবাইল হালায় চিৎকার না করলে হয় অন্তত ও বাঁচবে উপায় নাই তাই ভাবলাম কথা বলে দেখি কি হয় , আমার এক দোস্ত একবার এক ছিনতাইকারীর সাথে দোস্তি করে ফেলছিল কারণ দুইজনেই গিলে , কেমনে মিশায় এইসব আলোচনা থেকে দোস্তি আমি বললাম চলেন সামনে ভাল দোকান আছে , একসাথে সবাই মিলে মিষ্টি খাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকাইল মনে হল যেন , আমি এ.টি. এম শামসুজ্জামান নায়িকা নিয়ে পালাচ্ছি ' আমাগো পনের জন পোলাপাইন আছে , দেন টেকা দেন 'আমি মানিব্যাগ বের করে একটা ৫০০ টাকার নোট দিলাম ওদের আরেকজন টান মেরে মানিব্যাগ নিয়ে বাকী তিনটা নোট নিয়ে নিল খুচরা টাকা নে নাই , কি মহানুভবতা কেমনে জনি একজন বুঝছে পকেটে মোবাইল আছে , নিয়ে নিল মোবাইলটা সবে ঋণ মুক্ত স্বাধীন জীবন উপভোগ করা শুরু করেছিল আমি পিছন পিছন এক দৌড় দিয়ে গিয়ে বললাম , সিম র্কাড তো আপনাদের কাজে আসবে না হুদা কমে আমার ৫৭৫ টাকা বরবাদ কেন দিবেন ? দিয়া দেন ' যানগা এইদিকে আর আইসেন না ' আমি আসছিলাম সেদিন সন্ধ্যায় আবার আসছিলাম , সেবার আসছিলাম পুলিশ নিয়ে যাক সে কান্ড পরে বলবো

(চলবে) ====================================

২৪শে মে , ২০০৬

সকাল ৮:৩০

কলাম্বিয়া