Jun 11, 2014

আপত্তিকর নিয়ে আপত্তি

"আপত্তিকর" শব্দটাই আমার কাছে এখন অগ্রহণযোগ্য। "প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে" এই সংবাদগুলো ক্লীশে এবং বস্তাপঁচা। সমাজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে উদাহরণ হিসেবে দলমতনির্বিশেষে লোকজন এই উদাহরণটা টানে। আমাদের সমাজ হচ্ছে রেখেঢেকে রাখা সমাজ। এখানে রেখেঢেকে গণধর্ষণ করা যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে আলিঙ্গন করা যায় না।

আপত্তিকর তথ্যসূত্রঃ http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjcyMzQ%3D&s=MQ%3D%3D

May 9, 2008

ছোটগল্প

আমি সত্য না হইলে গুরু সত্য কোনকালে। আজ এই কথার সারমর্ম অনুধাবন করলাম। মনে হলো মোঁপাসা'র ছোট গল্প, টান টান কিন্তু সংক্ষিপ্ত। ভাসিয়ে নেওয়ার তীব্র একটা সম্ভাবনা নিয়ে আসা যে ঢেউ, গোড়ালির কাছে সন্তর্পণে মিলিয়ে যায় ঠিক সেরকম একটা অনুভব। বড় উপন্যাস হবার উপাদান ছিলো কিন্তু, গুরু চাইলেন না। আরো সহজভাবে বলতে পারি, মহাকাব্য হবার অমিত সম্ভাবনার অপমৃত্যুই ছোটগল্পের জন্ম দেয়।

Feb 5, 2008

উষ্ণ এই দিনে

প্রথমেই আমার ভাতিজি কে স্বাগতম জানাই এই বসন্ত আগমনী দিনে। পিয়াল এবং পিয়ারী দুজনেই তরতাজা থাকুন, শুভেচ্ছা নবসন্তানতৃত্ব পাওয়া দম্পতিকে।

লাঞ্চ খেতে আজ জাপানীজ রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলাম। হিবাশী রাইস সাথে গ্রিলড টেরিয়াকি চিকেন। সয়া সস একটু কম দিতে বলেছি, তাতে পেট ঠান্ডা থাকে। খাওয়াটা বেশ হয়েছে। অবশ্য খাওয়া ভালো না হলে খবরই ছিলো, কারণ রওয়ানা হবার সময় দেখি ১৫ ডলারের পার্কিং টিকেট খেয়েছি। মেশিন শপের পার্কিং লটে গাড়ী ছিলো। ওটা ফ্যাকাল্টি/স্টাফ পার্কিং । কিন্তু মজা হচ্ছে শুধু দুটো গাড়ীকেই টিকেট দিয়েছে, অন্যদের দেয়নি। সূত্র মারফত জানলাম কেউ একজন স্পেসিফিক্যালি আমার গাড়ীর নম্বর উল্লেখ করে পুলিশে ফোন দিয়েছিলো। মেশিন শপের এক স্টাফ চেষ্টা করেছে কিন্তু টিকিট দেওয়া আটকাতে পারেনি। কে এরকম করতে পারে ? এটাই আমার প্রথম পার্কিং টিকেট। ঈশ্বরের কোন খাস পেয়াদা হবে হয়তো, কিংবা শয়তানের ণওকর। বজ্জাত হাড়গিলে, চিমসে কাঠঠোকরা।

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে দেখি, আকাশ জুড়ে ধবল মেঘেরা পায়চারি করছে। বাজে ধরণের ঠান্ডা গায়েব, উষ্ণ এবং ওমদায়ক বাতাস। এটা বসন্তের অগ্রগামী সংকেত। ঠিক এই সংকেত চিনতে আমার কখনোই ভুল হয় না। বসন্ত আসতে দেরী আছে, কিন্তু খবর পাঠালো সে আসবে এবং নিশ্চিতভাবেই সে আসবে। গাড়ীটা এবার এনে রেখেছি একটা প্রাইভেট ডর্মের পার্কিং লটে, ওদের ট্যাগ আমার আছে। যেখানে রেখেছি সেখান থেকে একটা গাড়ি টো করে নিয়ে গেলো ক্ষণিক আগে। পিছনে হুড়কো লাগিয়ে, রাস্তায় নাক দিয়ে খত দিতে দিতে। কি বিষণ্ণ এবং বেদনাদায়ক সব নৈমত্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে, অসাধারণ বসন্তবার্তার দিনে। একটা দিন হুট করে কখনো থেমে যায়না, বসন্ত অনলে। বড়ই অদ্ভুত জীবনাচরণ।

Sep 15, 2007

টোয়েন্টি-টোয়েন্টি



টোয়েন্টি-টোয়েন্টি খেলা দেখিনি এখনো। তবে বুঝতে পারছি খেলাটা জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট বিনোদনের আবেদন বিশ্বব্যপী করবার জন্য যা করা দরকার সেটাই করছে কর্তাব্যক্তিরা। ওভার কমানো, মাঠ ছোট সাইজ করা, আরো নানাবিধ; ভবিষ্যতে চিয়ার লিডার'রা এসে হাফটাইমে কোমর দুলুনী দিলেও খুব একটা অবাক হবো না। গতপরশু ভারত-পাকিস্তান খেলায় যেটা দেখলাম, সেটা আমাকে ভাবালো। খেলা টাই হবার পর 'বোল আউট' নামক একটা উর্বর সমাধান। নিশ্চিত ভাবেই আইসিসি'র কর্মকর্তারা ফুটবল বাদে অন্য কোন খেলা দেখেন না, সেটা বোল আউট পদ্ধতি দেখলেই বোঝা যায়। জমজমাট একটা ম্যাচের নির্বোধ এবং প্রাণহীন সমাধান হতে পারে 'বোল আউট'। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের আনাচে-কানাচের কিশোর ক্রিকেটার'রা 'বোল আউটে'র চেয়েও দর্শনীয় এবং দক্ষতাপূর্ণ একটা সমাধান দিতে পারবে। যেটা পারেনি আইসিসি'র মাথামোটা মার্কেটিং এক্সপার্টরা। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। খেলা'র পণ্যমূল্য বাড়াতে গিয়ে, যেন বিনোদন মূল্য হারিয়ে না যায় সেদিকে তারা লক্ষ্য রাখবেন আশা করি।

Aug 29, 2007

আমাদের রোমযাত্রা কি তবে শুরু হলো ?

সব রাস্তাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এক পর্যায়ে রোম অভিমুখী হয়। কথাটা নিদারূণ সত্য বলে মনে হচ্ছে, সম সাময়িক ঘটনাপ্রবাহে। নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র, অপশক্তি, দূরভিসন্ধি নানাবিধ অভিধা এখন সেনাপ্রধান এবং উপদেষ্টাদের কথায়। আগের সরকারগুলোর অভিযোগের ক্ষেত্রে দেখেছি, সরকারীদল খুব প্রত্যাশিতভাবেই বিরোধীদলকে দায়ী করে থাকে নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত বলে। একই সাথে প্রধানদুটি দলের সাথে দুটো প্রতিবেশী দেশের ইন্ধন'ও উঠে আসে সরকারী প্রেসনোটে। এসব নাশকতা ছিলো বিরোধী দলের ছাত্রনেতা কিম্বা কোন নেতাকে ঢিট করবার প্রয়োজনীয় হাতিয়ার। বর্তমানে দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। যুগে যুগে সারা পৃথিবীতেই সেনাসরকার রাজনীতি বিরোধী। এখন রাজনীতিবিদ কিম্বা রাজনীতি যেটাই বলুন, রাজনৈতিক আবহকেই অপশক্তি বলে চিত্রায়িত করবার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার* (*সেনাসমর্থিত সরকার)।

সরকার বলছে, অপশক্তি চাইছে জনগণের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে দাঁড়া করাতে এবং প্রেসব্রিফিংয়ে বলছে রাজনীতিবিদরাই হচ্ছে এই অপশক্তি। তাহলে বিষয়টা কোথায় দাঁড়ায়। সরকার রাজনীতিকে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। ডানে-বামে কান্নি মেরে রাস্তা আবার ঠিক রোমে পৌঁছোচ্ছে। জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতায় আসবার পর পাকিস্তানের ব্যাংকগুলোতে ঋণখেলাপীরা লাইনে দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করে ঋণ শোধ করেছিলো। নেওয়াজ শরীফ আজীবন নির্বাসিত হলেন, এবং বেনজীর ভুট্টো দূর্নীতির দায়ে ওয়ারেন্ট এড়াতে প্রবাসী। আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীও, ঠিক এমন দশা হওয়ার মুখে ছিলেন। এখানে লক্ষ্যনীয় যে, পুরো রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ কে একপাশে রেখে দুজন স্কেপগোট তৈরির প্রথা, দু-দেশেই সমানভাবে বিরাজমান। তার মানে কী ? অন্য রাজনীতিবিদ যারা জেলের বাইরে আছেন, যারা সংস্কারের কথা বলছেন তারা অপরাধ করেননি ?


অপশক্তি'র প্রশ্নে আবার আসি। অপশক্তি কে বা কারা ? সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী এই পৌনে এক লক্ষ লোক অপশক্তি । এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমবেশী সব ছাত্র-ছাত্রীই অপশক্তি, কারণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ঢাবি থেকে। একটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১০০ জনে ১ জন, কিম্বা ১০ জনে ১ জন ভিন্নমত পোষন করলে সেটাকে আমরা ভিন্নমত বলতে পারি। সরকার পক্ষ বলবে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কিম্বা অপশক্তি। কিন্তু দেশের প্রতীক একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-অভিভাবক এবং দেশের অসংখ্য মানুষ যখন একই মত পোষন করে; তখন সেটা সরকারে পছন্দনীয় না হতে পারে কিন্তু সেটা একটা মত এবং সেটাই দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মত।

Aug 23, 2007

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানাই

সাদা-কালো ব্লগে গানটা শুনলাম খুব ভাল লেগেছে তাই ভাবলাম যত বেশী সংখ্যক শোনাতে পারি ততো ভালো।

Lives in the Balance - Jackson Browne

Ive been waiting for something to happen
For a week or a month or a year
With the blood in the ink of the headlines
And the sound of the crowd in my ear
You might ask what it takes to remember
When you know that you've seen it before
Where a government lies to a people
And a country is drifting to war

And theres a shadow on the faces
Of the men who send the guns
To the wars that are fought in places
Where their business interest runs

On the radio talk shows and the t.v.
You hear one thing again and again
How the u.s.a. stands for freedom
And we come to the aid of a friend
But who are the ones that we call our friends--
These governments killing their own?
Or the people who finally cant take any more
And they pick up a gun or a brick or a stone
There are lives in the balance
There are people under fire
There are children at the cannons
And there is blood on the wire

Theres a shadow on the faces
Of the men who fan the flames
Of the wars that are fought in places
Where we cant even say the names

They sell us the president the same way
They sell us our clothes and our cars
They sell us every thing from youth to religion
The same time they sell us our wars
I want to know who the men in the shadows are
I want to hear somebody asking them why
They can be counted on to tell us who our enemies are
But they're never the ones to fight or to die
And there are lives in the balance
There are people under fire
There are children at the cannons
And there is blood on the wire

ভিডিওটা দেখলে, আরো ভালো লাগবে।

* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক-সাংবাদিক নিপীড়নের প্রতিবাদ জানাই।

Jul 23, 2007

২৩ শে জুলাই, ২০০৭

লেখালেখি পুরোমাত্রায় বন্ধ। এটার কি কারণ হতে পারে। ব্যস্ততা বললে ভুল হবে। ব্যস্ত আমরা সবসময়ই থাকি। কিন্তু এখন যে সময় যাচ্ছে সেটাকে বলতে পারি, সময়ের পূর্ণ ব্যবহার। জেগে থাকা প্রতিটি মুহূর্তে কিছু করছি। এই কাজ করবার ক্লান্তি যেমন আছে, তেমনি আছে ভাল লাগা বোধ। নিজেকে পূর্ণোদ্যমে খরচ করবার তৃপ্তিই আলাদা। এই সময়গুলোতে নিজের ক্ষমতা, সামর্থ্যে এবং স্বপ্নের সাথে পরিচয় হয়। যা হোক এসব বলে জল ঘোলা করে আর কাজ নেই।

এখন থেকে প্রতিদিন, অন্তত এক পাতা লিখব ঠিক করেছি।