Showing posts with label দেশ. Show all posts
Showing posts with label দেশ. Show all posts

Aug 29, 2007

আমাদের রোমযাত্রা কি তবে শুরু হলো ?

সব রাস্তাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এক পর্যায়ে রোম অভিমুখী হয়। কথাটা নিদারূণ সত্য বলে মনে হচ্ছে, সম সাময়িক ঘটনাপ্রবাহে। নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র, অপশক্তি, দূরভিসন্ধি নানাবিধ অভিধা এখন সেনাপ্রধান এবং উপদেষ্টাদের কথায়। আগের সরকারগুলোর অভিযোগের ক্ষেত্রে দেখেছি, সরকারীদল খুব প্রত্যাশিতভাবেই বিরোধীদলকে দায়ী করে থাকে নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত বলে। একই সাথে প্রধানদুটি দলের সাথে দুটো প্রতিবেশী দেশের ইন্ধন'ও উঠে আসে সরকারী প্রেসনোটে। এসব নাশকতা ছিলো বিরোধী দলের ছাত্রনেতা কিম্বা কোন নেতাকে ঢিট করবার প্রয়োজনীয় হাতিয়ার। বর্তমানে দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। যুগে যুগে সারা পৃথিবীতেই সেনাসরকার রাজনীতি বিরোধী। এখন রাজনীতিবিদ কিম্বা রাজনীতি যেটাই বলুন, রাজনৈতিক আবহকেই অপশক্তি বলে চিত্রায়িত করবার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার* (*সেনাসমর্থিত সরকার)।

সরকার বলছে, অপশক্তি চাইছে জনগণের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে দাঁড়া করাতে এবং প্রেসব্রিফিংয়ে বলছে রাজনীতিবিদরাই হচ্ছে এই অপশক্তি। তাহলে বিষয়টা কোথায় দাঁড়ায়। সরকার রাজনীতিকে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। ডানে-বামে কান্নি মেরে রাস্তা আবার ঠিক রোমে পৌঁছোচ্ছে। জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতায় আসবার পর পাকিস্তানের ব্যাংকগুলোতে ঋণখেলাপীরা লাইনে দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করে ঋণ শোধ করেছিলো। নেওয়াজ শরীফ আজীবন নির্বাসিত হলেন, এবং বেনজীর ভুট্টো দূর্নীতির দায়ে ওয়ারেন্ট এড়াতে প্রবাসী। আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীও, ঠিক এমন দশা হওয়ার মুখে ছিলেন। এখানে লক্ষ্যনীয় যে, পুরো রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ কে একপাশে রেখে দুজন স্কেপগোট তৈরির প্রথা, দু-দেশেই সমানভাবে বিরাজমান। তার মানে কী ? অন্য রাজনীতিবিদ যারা জেলের বাইরে আছেন, যারা সংস্কারের কথা বলছেন তারা অপরাধ করেননি ?


অপশক্তি'র প্রশ্নে আবার আসি। অপশক্তি কে বা কারা ? সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী এই পৌনে এক লক্ষ লোক অপশক্তি । এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমবেশী সব ছাত্র-ছাত্রীই অপশক্তি, কারণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ঢাবি থেকে। একটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১০০ জনে ১ জন, কিম্বা ১০ জনে ১ জন ভিন্নমত পোষন করলে সেটাকে আমরা ভিন্নমত বলতে পারি। সরকার পক্ষ বলবে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কিম্বা অপশক্তি। কিন্তু দেশের প্রতীক একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-অভিভাবক এবং দেশের অসংখ্য মানুষ যখন একই মত পোষন করে; তখন সেটা সরকারে পছন্দনীয় না হতে পারে কিন্তু সেটা একটা মত এবং সেটাই দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মত।

Jun 11, 2007

ভূমিধ্বসের ভূমিকা





শেষ খবর পর্যন্ত মারা গিয়েছে ৮৬(এখন ১০৬) জন। এরকম দুই এবং তিন ডিজিটের গণমৃত্যু আমাদের দেশে নতুন না। তবুও খারাপ লাগে। শুধু বৃষ্টির জলেই মানুষ ভেসে যায় এখনো এই দেশে।

চট্টগ্রামে যে জায়গাগুলোয় দূর্ঘটনা হয়েছে তারমধ্যে কয়েকটা আমার বেশ পরিচিত। কুসুমবাগ/ডেবার পাড়/গরীবউল্লাহ্‌ শাহ্‌র মাজারের ওখানে ভূমিধ্বসের একমেবাদ্বিতীয়ম কারণ হচ্ছে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। যারা ভূমি আইন নিয়ে কিছু জানেন তারা হয়তো জেনে থাকবেন পাহাড়ে কোন দাগ চলে না। আরএস, পিএস কোন কিছু না। যার দখলে সেই পাহাড়ের মালিক। এই সহজ সূত্র আর মাসলম্যান দুইয়ের মিলনে চট্টগ্রাম বেরাছেড়া। কুসুমবাগের ঐ পাহাড়গুলোর বেশীরভাগেরই মালিক ইস্পাহানী। ওদের ভূ-সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবার সামর্থ্যে কমবার সাথে সাথে গত বিশ বছরে আগত সব কমিশনার, এলাকার মস্তান, প্রভাবশালী লোকজন যে যার মত কেটেছে পাহাড়।

পাহাড় কেটে কিভাবে জমি বের করা হয় সেটা কেউ দেখেছেন কিনা জানি না। সাধারণত করা হয় কি পাহাড়ের যে কোন একটা ঢালু পাদদেশে হঠাৎ একদিন সকালে দেখবেন একটা ঝুপড়ি মতন। দু-তিনটে রিকশার একটা গ্যারেজ, চা-বিড়ি’র দোকান।

কে খুলেছে ?
এলাকার বড় ভাই।
দুদিন বাদে একটু বাঁশ-টিন দিয়ে ছোট্ট ঘের। পাহাড়ের মালিক বুঝবার আগেই ঐ ঘেরের মধ্যে চলে কোদাল চালনা। পনেরদিনের কিম্বা মাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেল প্লট। পয়েন্ট টু বি নোটেড এটা এখন ফ্লাট ল্যান্ড। পাহাড়ের অংশ না। সুতরাং কেউ একটা আরসিসি পিলার গেঁথে দিয়ে দখল নিলেই সেটা তার প্লট। পাহাড়ের যেহেতু কোনো দাগ-খতিয়ান নেই, সুতরাং দাবী করার উপায় নেই এইটা এই পাহাড়ের অংশ।

এলাকার মাস্তানেরা এইভাবে প্লট তৈরি করে এবং লোকজনের কাছে বিক্রী করে। আবার সেই প্লট যারা কিনছে তারা তৎক্ষণাৎ দখল না নিলে আরেক মাস্তান সেটা দখল করবে। সুতরাং আবার নতুন ব্যবসা। প্লট উদ্ধার করে দেওয়ার ব্যবসা।

এই যে প্লট বানানো হয়, এটা পাহাড়ের কোল কেটে বা বলা যায় পাহাড়ের পায়ের কাছে খুঁচিয়ে একটু জায়গা বের করা হয়। তার মানে ঐ প্লটের পিছনে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে পাহাড়। এভাবেই পাহাড় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে প্লট যত বাড়ানো হয়, পেছনের খাড়া দেয়াল তত খাড়া হতে থাকে।

কুসুমবাগের পাহাড়(টিলা বলাই শ্রেয়) মূলত বালিমাটির। চট্টগ্রামে সব পাহাড়ের মাটিতে বালির ভাগ বেশী। এই বালির পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশীই হবে আমার অনুমানে। ফলে একটু মুষলধারে বৃষ্টি হলেই পাহাড় থেকে ঝরে পড়তে থাকে বালি। এই বালি যায় ড্রেনে। ড্রেন বন্ধ করে দেয় নিমিষের মধ্যেই। ফলে জল্যাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা যতখানি ড্রেনেজ সিস্টেমের দূর্বলতার জন্য ততখানিই পাহাড়ের ঢাল কেটে ফেলার, কারণে আগত বালির জন্য।

এই পাহাড়ধ্বসে মৃত্যু অনেক পুরোনো ঘটনা। নতুন কিছু নেই এতে। তারপরেও আজ খারাপ লাগলো। ভাবলাম আমি কি বড় বেশী আঞ্চলিকতায় ভুগি। অন্য একটা দেশে থেকে আজ দেশের জন্য উদাস হয় মন, আরেকদিন খারাপ হয় দূরের একটা শহরের জন্য। দেশে থাকলে হয়তো কোন বন্ধুর বাসায়, কিম্বা আর্ট কলেজের সামনে কোন এক বন্ধুর সাথে তুমুল তর্ক-আলোচনায় মেতে উঠতাম কেন হয় এরকম, কি করা উচিত এসব নিয়ে। আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যেত মন খারাপের মেঘ। রাতে বাসায় খেয়ে দিতাম একটা ঘুম। এখন একদলা প্যাঁপ্যাঁচে মনখারাপ নিয়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড খুলে বসি।

এই লেখার শেষে এসেও ভাবছিলাম এরকম ‘বন্ধু তুমি রঙ্গুম গেলা’ টাইপ ম্যাদারুস আবেগের কিছু আর লিখব না। এগুলো সম্ভবত না বলা কথা, শব্দের আকার নিচ্ছে।

Mar 26, 2007

বিকিয়ে যাওয়া ঈশ্বর


.

তখন ছিলাম থার্ড ইয়ারে। জীবনযাপন নিয়ে খুব বেশী ভাবিত নই। টিউশানি আছে মাসের শেষে টাকা আসবে। তিন মাস টিউশানি না করার নিশ্চয়তা ব্যাংকে রেখেছি। বেশ সুখী জীবন বলা চলে নিশ্চিতভাবেই এটাকে। খাই , ঘুমাই , ক্লাস করি। সকালে কার্জন হল দিয়ে শুরু, দুপুরে মধু , বিকালে শাহবাগ, সন্ধ্যায় টিএসসি হয়ে রাতে ঈশা খাঁ রোডে গপ্পোবাজির সীমানা।

এরকম একটা দিনে সন্ধ্যায় রুনু মুখার্জীর বংশীবাদন শুনতে যাদুঘরে ঢুকেছি, ঢুকার সময় বেশ চেক আপ হল, বুঝলাম না। অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে দেখি চারিদিকে একটা গুমোট ভাব। পরদিন চট্টগ্রাম যাবো, তাড়াতাড়ি ঘর মুখো হলাম। ঘর থেকে সরাসরি বাস স্টেশন।

আমার চট্টগ্রামের বাসায় খবর দেখবার বাতিক আছে। তখনো বিবিসির শাসন চলছে টিভিতে। বড়ভাই পারলে দুইচোখের একটা দিয়ে বিবিসি আর একটা দিয়ে সিএনএন দেখে। বাসায় সকালে পৌঁছেই খবরটা দেখলাম। টুইন টাওয়ার স্ম্যাশড টু গ্রাউন্ড।

এক লহমায় বিশ্বরাজনীতির নতুন পাতা শুরু হল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। নিউইর্য়ক এর গ্রাউন্ড জিরো থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ জগন্নাথ পাঁড় পর্যন্ত পৌঁছোলো।


.

সত্তর দশকের শেষদিকে পাকিস্তান বর্ডারে করা মাদ্রাসাগুলোর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আরো বিশ বছর বাদে
আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের মধ্য দিয়ে আমরা দেখলাম।


.

বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হবে। আমি খুব একটা আনন্দিত নই এই খবরটায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদন্ডের বিরোধী। আরো ঘোর বিরোধী আমি অপরাধীর ফাঁসির মধ্য দিয়ে পাপের চিহ্ন মুছবার প্রক্রিয়ার। কারণ আমার খুব সাধারণ মস্তিষ্ক বলে, দেশের পাঁচশো জায়গায় একই সময়ে বোমা বিস্ফোরণ করানোর মত সামর্থ্যে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠনের আছে। তার মধ্যে কোনো নাবালক সংগঠন নেই। কিন্তু এক নাবালকের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে, ঘাগুরা পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যে চলে গেছে।


.

আগামী শনিবার বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার খেলা দেখবো। আমাদের নার্ভ টানটান হয়ে থাকবে খেলার প্রতিটি মূহুর্ত।

বউবাজার বস্তি আগুনে পুড়ে গেল। টানবাজার উচ্ছেদ হয়ে গেল সেই কবে। সোনারগাঁওয়ের বস্তিটা উন্নয়নের মডেল হিসেবে আরো কিছু কাল থাকবে।

বিশেষ বাহিনী আরো কিছু রাজনীতিবিদ ধরবেন। বছর তিনেক বাদে সামরিক-বেসামরিক, গৃহপালিত-বন্য মিলিয়ে শ-তিনেক রাজনীতিবিদের সংসদ ভবন ভর্তি থাকবে। নতুন ফাইটার জেট কিনবার জন্য তারা কাড়ি কাড়ি টাকা বরাদ্দ দেবেন।


.

আমাদের ছাপোষা জীবনে ঈশ্বর তার অসীম ক্ষমতা নিয়ে সবসময়ই থাকবেন। স্টিফেন হকিং অসীম ঘনত্বের মটর দানা সদৃশ সৃষ্টিরহস্যের কথা যতই বলুন, ঈশ্বর সপ্তর্ষীমন্ডলের চেয়ে ও বেশী উজ্জ্বলতায় আমাদের আকাশে থাকবেন।

.

এই ঈশ্বর আমার নয়,
কখনোই বোধকরি ছিলেন না
চড়া দামে বিকিয়ে যাওয়া
এই ঈশ্বরের দিকে এক দলা থুতু দিই
।।



ছবিসূত্রঃ Post Secret



Mar 17, 2007

নতুন স্লোগানঃ এসো সব ডোরাকাটা মিলে নির্মাণ করি 'এল ডোরাডো'



আজ বাংলাদেশ যেটা করলো সেটা একটা ইতিহাস। ১৭ই মার্চ ২০০৭। এতদিন প্রেস, মিডিয়া,কমেন্টেটর সবাই বাংলাদেশ কে নিয়ে খেলতো। টিভি স্ক্রিনে বসা সেট ম্যাক্স এবং ইএসপিএন এর কমেন্টেটররা বলার কিছু খুঁজে না পেলে বাংলাদেশকে এক পশলা দেখে নিতেন। এটা অনেকটা কার্ড শাফল করবার মত একটা কাজ হয়ে গেয়েছিল তাদের। কাজ নাই তো খই ভাজ। এবার সেটার একটা দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিল আমার দেশ। বাংলাদেশ খেললো এবং খেলালো। আস্তে আস্তে খেলিয়ে খেলিয়ে বড় মাছ নৌকোয় তুললো বাংলাদেশ। সাবাশ ডোরাকাটা বাঘের দল।

টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পর সব দেশেই বাংলাদেশ একটা টেস্ট সিরিজ খেলেছে। হোক না তা দু টেস্টের , তবুও খেলেছে। এই যে এত অহমিকা এবং দম্ভপূর্ণ অস্ট্রেলিয়া, তারাও টেস্ট সিরিজ খেলেছে। তারা বলেছে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা হাত বাড়াবে, কথা রেখেছে। কিন্তু ভারত সেটা পারেনি, কারণ টাইগাররা গেলে ট্যাঁক ভারী হবে না।

একসময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ব্রাত্য করে রাখত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলো। এখন দক্ষিণ এশিয়াতেই আবার একটা শ্রেণী বৈষম্য চালু করেছে, অর্থনৈতিক দানব ভারত।

বোঝো এবার ল্যাঠা।

আজ থেকে দিচ্ছি নতুন স্লোগান ''এসো সব ডোরাকাটা মিলে নির্মাণ করি স্বপ্নের এল ডোরাডো ''।।

Mar 4, 2007

সাবাশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

অনেকদিন পর গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বেশ কয়েক বছর যাবৎ তারা এই প্রক্রিয়াটা চালু করেছে কিন্তু সত্যিকার নজরে আসল এইবার। একটা বড় পেটমোটা মাছ বড়শীতে পড়বার পর। ব্রাভো চবি।

ফেল করা একজন ছাত্র দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে বিচারকার্য করবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ করবে ভাবতেই গা গুলায়। ভূল বুঝবার কোন অবকাশ নেই এখানে। একজন ছাত্রের ফেল করা নিয়ে আমার কোন উন্নাসিকতা নেই, কিন্তু ফেল করে জালিয়াতি করে পাশের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বিষয়ে আমার তীব্র অনীহা আছে।

আমি এটা
ভাবতেই শিউরে উঠতাম যে এই বিচারক একদিন প্রধান বিচারপতি হবে, নাইকো'র ক্ষতিপূরণ মামলা চালাবে, এমপি'র আদালত অবমাননার মামলা চালাবে, দেশে ও জাতি নিয়ে বক্তব্য ঝাড়বে এবং লোকজন সেটা বিশ্বাস করবে। আমি ভাবি এবং আমার গায়ে কাঁটা দেয় একধরণের শীতল অনুভূতি।

আমাদের সরকার সমর্থিত ভিসি'রা এরকম অনেক কুকর্ম
সমর্থন করেন। আমার নিজের চোখে দেখা, কিভাবে ফেলু ক্যাডার কে পাসের লিস্টে নাম তোলা হয়। কিভাবে নির্বাচন কমিশনে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নষ্ট যুগের অবসান বড় দরকার হয়ে পড়েছে।

আমার সময়ের সেরা ছাত্রদের দেখেছি সরকারী চাকরীতে কি তীব্র অনীহা। কেউ বেতন ভাতার কারণে, কেউ মামা নেই ঢুকতে পারবে না বলে, কেউ অবচেতন আরোপিত ঘুষ নিতে হবে বলে। অথচ এরকম হওয়ার কথা ছিল না। দেশের সেরা ছাত্ররা দেশের সেরা জায়গায় যাওয়ার তীব্র প্রতিদন্দ্বীতা করবে এরকম হবার কথা। অথচ হয়নি। দেশের প্রতিটি নির্বাচিত সরকার দলীয় দালালদের দিয়ে প্রশাসনের দলীয়করণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য দলীয় তকমা, ধর্মীয় তকমা, সর্বোপরি মেধাহীন তকমাটা প্রধান হয়ে গিয়েছে। গত দশ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়জন নন-জামাত তকমার ছাত্র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সেটা পরিসংখ্যানের বিষয়; বোধকরি বাংলাদেশের জন্মহারের চেয়েও কম হবে এই সংখ্যা।

আমার খুব ইচ্ছা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়জন
নন-মুসলিম নিয়োগ পেয়েছে সেটা জানতে। এই সংখ্যা আমাদেরকে একটা রেসিস্ট জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে দেখি এক ধরণের পরিবারতন্ত্র জেঁকে বসছে। অমুক স্যারের ছেলে, ভাতিজা এখন শিক্ষক। এই পরিস্থিতি বেশ কয়েকটা ডিপার্টমেন্টে। একটা পরিবারেই সব মেধা কি সঞ্চিত হতে পারে? এ আমার কাছে এক বিস্ময়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে ঝেড়ে কাশবার দরকার এখন। সরকারী কর্ম কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড়া করানোর দরকার। এভাবে চলতে পারেনা একটা দেশ, একটা শিক্ষা ব্যবস্থা।

Feb 26, 2007

হুমায়ুন আজাদের সাথে কিছুক্ষণ




কুৎসিত এক বিবমিষা বোধ করি মাঝে মাঝে। সব কিছু থেকেই উঠে যায় মন। আমরা এক বিচিত্র ধরনের সমাজিক জীব। নিজের পছন্দ- অপছন্দ সব কিছু নিয়ে জড়াজড়ি করে বাস করতে হয়। উপায় নেই, গোলাম হোসেন। সমাজের গোলাম হলে এরকম হবেই।
হুমায়ুন আজাদ কি এরকম বোধ করতেন ? আমি জানি না। তবে আমি এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম যে উনি সাধারন মানুষ না।

হত্যা প্রচেষ্টা থেকে ফিরে, সুস্থ হয়ে আসার পর আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম। আমি, ফ্রন্টের রায়হান ভাই, অমি। দরজা খুলে দিয়েছিল মৌলি। অমি তার স্টোরির অংশ হিসেবে স্যারের ছবি তুলবে। আমি, রায়হান ভাই স্যারের সাথে কথা বলে উনাকে স্বভাবিক রাখবো। আমার নিজের ছবি তোলার ব্যাপারে কেনো শখ নেই, সেটার জন্য আজ আফসোস হয়, স্যারের পাশে বসে একটা ছবি ও তুলিনি।

মানুষ হিসেবে তার অনন্যতা এখানেই যে উনি নিজের ফিরিস্তি করেননি। এতবড় একটা আঘাত শুধু তার চোয়াল বাঁকা করে দিয়েছে । তার মন হয়ে গিয়েছিল দ্বিগুণ উদ্যমী। নিজের স্বাস্থ্যের কথা অল্প কথায় শেষ করে খবর নেওয়া শুরু করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমরা কিভাবে আন্দোলন করেছি, কে কে পুলিশী র্নিযাতনের শিকার হয়েছে। স্যার অসুস্থ থাকা অবস্থায় উনার সন্তানরা দৈনিক পত্রিকা এবং অন্যান্য মিলিয়ে ৫০০০ এর ও বেশী পেইজ কালেক্ট করে রেখেছে। বিভিন্ন মানুষ এসে ঐ ঘটনা নিয়ে যেখানে যত লিখা হয়েছে সব দিয়ে গেছে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হচ্ছে উনি সেগুলো পড়া শুরু করে দিয়েছেন। একটা বই লিখবেন। নামট া আপনারা সবাই জানেন । আমাকে বলেছিলেন, তোমরা যে যা করেছ, যা যা দেখেছ, এই ঘটনা এবং তার পরর্বতী আন্দোলন, র্কাজন হলে পুলিশের হামলা; তোমাদের সব অনুভূতি একটা সাদা কাগজে লিখে আমাকে দাও। সবচেয়ে ভাল হয়, একটা ক্যাসেটে তোমরা কথা রের্কড করে দাও, কারন সবাই লিখে প্রকাশ করতে পারেনা। বলার মধ্যে যে আবেগ আর অনুভূতি থাকে সেটা লিখায় প্রকাশ সম্ভব না। তোমাদের যে খরচ হবে সেটা আমি দিয়ে দিব। তুমি পরিচিত সবাইকে বল, তোমারা আমার জন্য যা করেছ, যে ভালবাসা দেখিয়েছ সেটার জন্য আমি অভিভূত। আমি ভাবতেও পারিনি, আমার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পুলিশের মার খাবে। লিপন ভাই পুলিশ কাস্টডিতে মার খাচ্ছে শুনে খুব কষ্ট পেলেন। তোমরা আমার জন্য আরেকটু কষ্ট কর, তোমাদের কথা রের্কড করে আমাকে দাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা প্রসঙ্গে সাহস করে শিক্ষক সমিতি র্কতৃক উনাকে নিয়ে ঘটা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যার্বতন প্রোগ্রামটার কথা পেড়ে ফেললাম। তীব্র বিরক্ত উনি প্রোগ্রামটা নিয়ে ।শিক্ষক সমিতি জিনিসটাকে উনি এই জীবনে কখনোই পছন্দ করতে পারেননি।

তীব্র বিবমিষা বোধ করি, যখন দেখি শস্যহীন, ভূমিহীন,শাপলা-শালুক হীন জীবন । আম সেমাই হীন ঈদ, প্রতিমা হীন পূজো , শীৎকার হীন মিলন আর ভূমিহীন সংস্কৃতি। মনে হয় যেন বন্দুকের মুখে অ্যার্পাটমেন্টে উঠিয়ে দিতে চাইছে ।

হুমায়ুন আজাদের কয়টা প্রবচন দিয়ে শেষ করি , (স্মৃতি থেকে দিচ্ছি, হুবহু হবে না )

'' সংসদ হচ্ছে তিনশ শুয়োরের খোয়াঁড়। ''

'' টিভিতে এরোপ্লেন র্মাকা আলকাতরার বিজ্ঞাপনে বলা হয় গাড়ির বডি, বাড়ির ছাদ , নৌকা সব জায়গায় আলকাতরা লাগান। আমি বলি সবচেয়ে আগে টিভি স্ক্রিনে লাগান।''

হুমায়ুন আজাদ আপনি যেখানেই থাকুন আমাদের জন্য র্প্রাথনা করুন। বাচ্চা শুয়োর যেমন বাপের পাছায় কামড় দিয়ে, নতুন গজানো দাঁত পরীক্ষা করে, আমরা যেন সেরকম না হই।

=======================================

চৌঠা জুন, ২০০৬
রাত ২:৫০
কলাম্বিয়া।



Feb 4, 2007

পৌণঃপুনিক জীবন


নতুন ডেরায় আর্ন্তজাল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বিধায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন রমজানীয় ঘোমটা দেওয়া পাঠিকাঅদ্য হইতে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনার মধ্যযুগীয় ডেরায় উওরাধুনিক ওয়্যারিং করা হইবে তদ্যবধি আবহাওয়া সংবাদ দেখুনঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুর , কুষ্টিয়া, পাবনা ইত্যাদি বিভাগীয় এবং হবু বিভাগীয় শহরে রোদ-বৃষ্টি-বজ্র সহ বৃষ্টি-বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোবৃষ্টি- দমকা-হালকা- দুলকি- ক্যাটওয়াক সহ নানাবিধ চালে হাওয়া আসতে পারে বিভিন্ন শহরের তাপমাত্রা বিভিন্ন রকম তাই ১-১০০ সব তাপমাত্রাই দিকে দিকে দেখা দিতে পারে উন্নয়নের জোয়ার এই সরকার আসার সময় যেটা শুরু হয়েছিল সেটা এখনো প্রবল বেগে চলছেথামাথামির কোন নাম নেই নাম আগে যা ছিল সব পালটে দেওয়া হয়েছে , কোথাও কোন নাম কুনা কানচিতে বাদ পড়লে আওয়াজ পাড়বেন তৎক্ষণাৎ পালটে দেওয়া হবে আমাদের দুই ফটকাবাজ নেতা সংলাপ নামক মালকা-মালকিতে ব্যস্ত আছেনদেশব্যপী তড়িৎবিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া, জনগণের পাছা আংগুল দিয়ে বহাল তবিয়তে ইফতার আলাপন করে যাচ্ছেন আপা-দুলাভাইরাসবাই ব্যস্ত সামনের খেলার সূচী নিয়েখেলা দিবারাত্রি হবে নাকি আধোরাত্রি ? কে রেফারী হবে ? কে হবে লাইন্সম্যান ? কে হবে ম্যাচরেফারী ?

জনগণ চনা কিনতে গেলে ডাল কিনতে পারেনা খেজুরের দাম শুনলে মনে হয় বেহেশতি খেজুর দুনিয়াতে আইসা পড়ছে চালের দাম তরতরিয়ে উঠে গেছে গাছের আগায়

বাজারে পাকিস্তানী লেহেংগা আর ইন্ডিয়ান শাড়ী-পানজাবী আসা শুরু হয়েছে আমাদের দেশ উদ্ধার করা দৈনিক গুলোর প্রথম পাতায় কোন বাজারে ১ লাখ টাকার শাড়ী , কোন বাজারে ১.৩০ লাখ টাকার লেহেংগা এসছে খবর দেবে পাশের কলামে আবার এসিডদগ্ধদের জন্য তহবিলের খবর থাকবেঈদ ফ্যাশন সংখ্যা বের হবেনামীদামী রাইটাররা দুহাতে লিখে যাবেন চাঁন রাত ভর ঈদ সংখ্যার জন্যযার বেশীরভাগই ঈদের চাঁদের মত আধঘন্টা বাদে মনের আকাশ থেকে উধাও হয়ে যাবে আহা আমাদের শিশুরা তারা ঈদে পেতে পারেনা , আনন্দমেলা পূজার্বাষিকীর মত সুললিত সাহিত্য

পত্রিকার পাতা ভরা থাকবে মিসেস সালমা আর রহিমার মুখরোচক খাবারের রেসিপি, কিন্তু উপাদানগুলো আওতার বাইরে আকাশের তারার মত ছিনিমিনি খেলবে

এর মধ্যে বেকুবেরদলা প্রেসিডেন্ট ঈদেরদিন জনগণের সাথে করর্মদন করবেন সারাদিনআহা এই প্রেসিডেন্ট পদটা না থাকলে বেচারা গণভবনের খানসামাদের এই কাজটা করতে হতো কি ভালো প্রেসিডেন্ট ,কি অবলীলায় অপ্রয়োজনীয় সব কাজ ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে করেন

ঢাকা শিশুর্পাক সেদিন সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে, পথের শিশুরা সেমাই এর খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরবে, শিশুর্পাক জমজমাট হবে বুড়োদের কলরবে টিভিতে আনন্দমেলার নামে একটা উৎকট স্যুট পরা লোক খালি হে হে করে যাবেন বিদেশী ফুটেজ দেখাবেন অনুবাদ করে, সাথে নায়ক-নায়িকাদের কুইজ কনটেস্ট

আমাদের জনগণ মাথাপিছু র্কজের ভারে নুয়ে যাবেন কৃষকেরা ডিজেলের হাহাকারে রোদন করবেন এমপিরা ঈদ পুর্নমিলনীতে কোন নায়িকা নাচালে যুবরাজ খুশি হবে সেটা ভাববেন

র্সবোপরি চাঁদটা এক জায়গায় আটকে থাকবে জোয়ারই জোয়ারভাটা আর আসবে নানতুন সরকার এসেই সদ্যজন্মানো ভাটাকে , পেঁদিয়ে জোয়ার বানিয়ে দেবেন কিছুদিন পরপর বলবনে গত সরকার দায়ী ৪৩৩২ পাতার শ্বেতপত্র বের হবে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় এক চিমটি এখানে লোডশেডিং , এক খাবলা ওখানে , পুরোটাই গাপ করে দেবেন ঢাকার বাইরে কানসাটে তবুও মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল যাবে, প্রতিবাদ করলে গুলি এরপর আমাদের প্রথম সারির লোকজন বলবেন এসব ধান্ধাবাজি আবার ঈদ আসবে , আবার লেহেংগা , আবার চুলের ফিতা , আবার ইলেকশন

লিখা হয়েছিলঃ ৬ই অক্টোবর, ২০০৬

Dec 21, 2006

অভিযোজন

ক্রিসমাসের ছুটি শুরু হয়ে গেছে , এখন ক্যাম্পাসে পাতা ঝরার আওয়াজ ও স্পষ্ট শোনা যায়যদিও সারা বছর চার দেয়ালের মধ্যে কাটানো হয়, বাইরে খুব বেশী যাওয়া হয় না। তবুও ক্যাম্পাসের এই ফাঁকা ভাবটা অসহ্য লাগে। এর মধ্যে যদি দেখা যায় রুমমেট চলে গেছে অন্য কোথাও তখন আরো খারাপ লাগে। মানুষের সম্পর্কের সূতো গুলি খুব টানটান। যার সাথে গোটা সপ্তাহে সত্তুর মিনিট কথা হয় না, তার অনুপস্থিতিও খুব বাজে। প্রবাস শব্দটাকে মেলে ধরলে হবে প্রকৃষ্ট যে বসবাস। এই লাইনটা প্রবাস শব্দটাকে মোটেই ধারণ করে না। প্রবাস অনেক বেশী নির্জন এবং শীতল শব্দ।

পরিবারের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা অনেক পুরোনো। সেটাও অনেকটা একা থাকার সময়। কিন্তু সে সময়টা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সময়। ভীষণ স্বর্ণালী সময়। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকলেও একা থাকা হয়নি। দেশের বাইরে
সবচেয়ে খারাপ যে বিষয়টা আমার লেগেছিলো প্রথম সেটা হচ্ছে, তীব্র অপরিচিত একটা পরিবেশ। চারিদিকে এত সবুজ, অথচ এ সবুজ যেন আমার নয়। একটা গাছের নাম জানিনা। একটা পাখির নাম জানিনা। আমি যেখানে থাকি সেটা ভীষণ
সবুজে ভরপুর একটা জায়গা, অথচ এই সবুজ মনে কোন দ্যেতনা সৃষ্টি করেনা। আস্তে আস্তে বিষয়গুলো কেটে যায়, অভিযোজিত হয়ে পড়ি। কোথায় যেন ঠিকই একটা কিন্তু থেকে যায়।

আমাদের জীবনের সেরা সময়গুলো আমরা অভিযোজন প্রক্রিয়ায় কাটিয়ে দিই। এক সময় আবিষ্কার করি আমরা অভিযোজনের অপর নামই জীবন ধরে নিয়েছি।

Dec 11, 2006

প্রমিত বাংলা


একটু আগে জাতীয় পতাকা বের করলাম স্যুটকেসের মধ্যে থেকে। মাঝারি সাইজের পতাকা। আসার সময় আম্মা ব্যাগে গুঁজে দিয়েছিল। কিউবিকলের দেয়ালে লাগাবো , হার্ড ড্রাইভ ম্যাগনেট দিয়ে। মেরুন কালারের দরজায় লাল সবুজের পতাকা আশা করা যায় ভালই লাগবে। আমি যখন এখানে প্রথম আসি , আমার প্রফেসর অন্য এক প্রফেসরের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বলেছিল,
ও বাংলাদেশ থেকে এসেছে। সেই প্রফেসর জিজ্ঞাসা
করেছিলেন, '' তোমার ভাষা কি ?''
'' বেঙ্গলি ''
সাথে আমার প্রফেসর যোগ করে দিলেন ,
''They value their language more than their religion, isn't it iftekhar ''
আমার কানে কথাটা বাজে , বারবার ।

ভাষার সঠিক মর্যাদা রাখতে পারছিতো, প্রমিত উচচারণ , সঠিক বানান, এবং অপ্রচলিত শব্দকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। সঠিক ভাবে করছিতো আমার প্রার্থনা ।